৯ বছরেও ঘরে ফেরা হয়নি: কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের বড় সমাবেশ, নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি
৯ বছরেও ঘরে ফেরা হয়নি: কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের বড় সমাবেশ, নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি
কক্সবাজার, ২৫ আগস্ট ২০২৬: মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে আশ্রয় নেওয়ার নয় বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস’ পালন করা হয়েছে।
ক্যাম্পগুলোতে সমাবেশ, আলোচনা ও স্মরণ কর্মসূচির মাধ্যমে রোহিঙ্গারা তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও আজকের কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।
উখিয়ায় বড় সমাবেশ
উখিয়ার কুতুপালং এলাকার ক্যাম্পগুলোতে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা সমাবেশে অংশ নেন। বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে তারা নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ, অধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবি তুলে ধরেন।
রোহিঙ্গা নেতারা জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশে অনির্দিষ্টকাল শরণার্থী হিসেবে থাকতে চান না। তবে মিয়ানমারে ফেরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে।
নয় বছরেও বড় আকারে প্রত্যাবাসন হয়নি
২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। নয় বছর পরও বড় আকারে টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে প্রত্যাবাসন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অগ্রগতির কথা জানিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকার কয়েক লাখ ব্যক্তিকে যাচাই করা হয়েছে। তবে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসনের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো স্পষ্ট নয়।
আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান
রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় ক্যাম্পগুলোর মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
সামনে কী হতে পারে?
রোহিঙ্গা সংকটের দশম বছরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাবাসন ইস্যুটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটের একটি টেকসই সমাধান গুরুত্বপূর্ণ।
রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা—তারা নিরাপদ পরিবেশে নিজেদের ভূমিতে ফিরতে চান। এখন সেই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার, বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ কতটা এগোয়, সেটিই দেখার বিষয়।
আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬
তথ্যসূত্র: Associated Press (AP), Al Jazeera, bdnews24, Anadolu Agency এবং অন্যান্য সাম্প্রতিক প্রতিবেদন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন