শনিবার, ১ মে, ২০২১

বেকারত্ব দুরীকরনে আউটসোর্সিং


বর্তমান বাংলাদেশে আউটসোর্সিং এর অবস্থান আশাব্যঞ্জক। দেশের অনেক তরুন লেখাপড়ার পাশাপাশি আউটসোর্সিং এর কাজ করছে। অনেকেই দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া করে চাকরির আশায় না থেকে আউটসোর্সিং এর কাজ করছে। আউটসোর্সিং করতে গিয়ে অনেকে নতুন নতুন প্রোগ্রামিং, ওয়েব ডিজইন ও গ্রাফিক্সের কাজ শিখছে। এতে তরুনদের অভিজ্ঞতা দিন দিন বাড়ছে। তারা এসব কাজ শিখে দিন দিন দক্ষ হয়ে উঠতেছে। যার প্রতিফলন দেখা যাবে অদুর ভবিষ্যতে। লিখেছেন মামুন আল কারিম। এখন শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরেও অনেকে আউটসোর্সিং এর পেশা হিসেবে বেছে নিছেছে। কয়েক বছর ধরে এই তথ্যপ্রযৃক্তিবিষয়ক আউটসোর্সিং এ বাংলাদেশ যেভাবে উন্নতি সাধন করছে, আগামী কয়েক বছেরে তা বৈদেশিক মৃদ্রা আয়ের দিক থেকে সবর্োচ্চ স্থান দখলকারী গার্মেন্ট শিল্পকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। প্রতি বছর এ খাতে বৈদেশিক মুদ্রা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে। দেশের তরুনা আউটসোর্সিং এর কাজে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছে। আউটসোর্সিং এর ব্যাপারে বিষয়টা সম্পূর্ন আলাদা এখানে যে যত বেশি দক্ষ, তার কাজ তত বেশি। বিদেশী বায়াররা কোনো জব বা কাজ পোস্ট করার পর দেশের তরুণরা অন্যদের সাথে পাল্লা দিয়ে বিড করে ইন্টারভিউ দিয়ে বায়ারদের মানসম্মত কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছেন দেশের তরুণরা। আউটসোর্সিং শুরু: নিজের কাছে কাজাটি ভালো লাগলে যত দ্রুত সম্বব শুরু করতে হবে। যত আগে শুরু করবেন তার তত অভিজ্ঞতা বাড়বে, কাজ বাড়বে সবর্োপরি নিজেও প্রস্তুত হবে বেশি কাজের জন্য। আউটসোর্সিং এর জন্য অনলাইন যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে। একবার কোনো কাজ সময়মতো ও সঠিকমতো করতে না পারলে পরে ওই ফ্রিলান্সার এর কাজ পেতে সমস্যা হতে পারে। এজন্য খুব বেশি স্বচ্ছতার সাথে কাজ করতে হবে। সফল হওয়ার সম্বাবনা: আউটসোর্সিং হল কোনো প্রতিষ্ঠানে তাদের কাজ অন্যদের দিয়ে করিয়ে নেয়া। সাধারনত কোন প্রতিষ্ঠান কোন ধরনের কাজ করতে চান সেটা কোন মাধ্যমে প্রকাশ করেন, যারা সেই কাজ করতে আগ্রহি তারা টেন্ডার এর মাধ্যমে অংশ নেয় সেই কাজ পাওয়ার জন্য। তবে এজন্য যে আউটসোর্সিং করবে তার দক্ষতার এবং অভিজ্ঞতার পরিচিত তুলে ধরা, কী কী সুযোগ আছে সেগুলো তুলে ধরা এবং প্রতিযোগিতামূলক দাম নিয়ে প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা। প্রতিষ্ঠানটি এক দিকে আপনার কাজ ঠিকভাবে করার যোগ্যতা আছে কি না এবং অন্য দিকে কম দামে কাজটি করানো যাবে কি না তা নিয়ে চেষ্টা্ করে। এই দুই শর্ত পূরণ করলে আপনি কাজ পেতে পারেন। এক্ষেত্রে ফ্রিলান্সার, ফাইবার, গুরু, ওডেস্ক ইত্যাদি এ ধরনের সাইট আপনার এবং কাজ করাতে আগ্রহি প্রতিষ্ঠানে যোগসুত্র স্থাপনের কাজটি করাবে। আউটসোর্সিং লাভ কেনো এত সন্দেহ করার অবকাশ নেই। তবে এজন্য প্রস্তুতি থাকতে হবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান 5 বছরের অভিজ্ঞতা চায় তবে এখন থেকে শুরু করেন 5 বছর পর আপনি সেই কাজটি পাবেন। এজন্য যদি আউটসোর্সিং এর কাজ পেতে চান তাহলে সময় ব্যয় না করে এখনই কাজে হাত দিন। বিষয় নির্ধারণধ: আউটসোর্সিং এর কাজের জন্য বিষয় নির্ধারন খুবই গুরুত্বপূর্ন। আউটসোর্সিং এ সফলতার জন্য নিজের দক্ষতা বা নিজের পছন্দের বিষয় অনুযায়ী কাজ খুজে বের করতে হবে। একজন ফ্রিলান্সার এর প্রথম কাজ হলো তিনি কোন কাজটি করবেন তা আগে নির্ধারণ করা। কারণ তাকে আন-র্জাতিক বাজারে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে বিড করে কাজ করে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা না থাকলে নতুন কাজ নেয়া ঠিক হবে না। আউটসোর্সিং এর মূলমন্ত্র হল মেধা ও দক্ষতা। আর সবচেয়ে বেশি থাকতে হবে ধৈর্য। সংশ্লিষ্ট কাজের পাশাপাশি ইন্টারনেট বিষয়ে ভালো অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কাজ করার ক্ষেত্রে অবশ্যেই ডেডলাইনের দিকে নজর রাখতে হবে। কাজের ক্ষেত্র: আউটসোর্সিং এ ভালো কাজ করতে হলে ভালো ফ্রিল্যান্সিং সাইটে কাজ করা উচিত। ফাইবার এরকম একটি বিশ্বস্ত সাইট। এটি বিশ্বের জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য ফ্রিল্যান্সিং সাইট হিসেবে পরিচিত। এ সাইটটিতে সমভিত্তিক এবং বরাদ্দকৃত মূল্যের মাধ্যমে কাজ করা যায়। এখানে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডিজাইন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ব্লগ রাইটিং বা আর্টিক্যাল রাইটিং, ডাটা এন্ট্রি, গ্রাফিক্স ডিজাইন, কাস্টমার সাপোর্ট, সেলস মার্কেটিংসহ বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও বিনামূল্যে নিবন্ধনের মাধ্যমে বিড শুরা করা যায়। সাইডটির ঠিকানা WWW.FIVER.COM. ফাইবার ছাড়াও আরো একটি জনপ্রিয় সাইট হচ্চে ফ্রিলান্সার। এ সাইটেও 32 লাখ 35 হাজার 220 জনের বেশি লোক কাজ করে। ইংরেজীতে দক্ষতা থাকতে হবে: বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে দেশের তরুনেরা ফ্রিলান্সিং এ পিছিয়ে থাকার কারন হচ্ছে ইংরেজীতে দুর্বলতা। ১৬ বছর ইংরেজি পড়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি কমিউনিকেশনের যে অবস'া হয় তা বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে আশানুরূপ নয়। আউটসোসর্িসিং এর জন্য ইংরেজী একটি গুরুত্বর্পূ টুল সেটি বুজতে চান না। ইংরেজীতে আমদের দূর্বলতা আছে এমন চিহ্নিত অংশগুলো উন্নত করতে পারলে আউটসোর্সিং র‌্যাংকিংয়ে আমরা অচিরেই শীষর্ে থাকব। যেহেতু বিদেশি বায়ারদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে সেহেতু ইংরেজীতে ভালো স্কিল থাকা আবশ্যক। বেকারত্ব দূরীকরনে : দেশের প্রেক্ষাপটে আউটসোসিং এখনও শিল্প পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে ফ্রিলান্সার যেভাবে বাড়ছে তাতে দেশে আউটসোর্সিং এ অচিরেই শিল্পের পরযায়ে পোছে যাবে এমনটাই মণে করছেন প্রযুক্তিবিদরা। এত করে দেশের তরুনেরা অর্থনৈতিকভাবে উপকুত হচ্ছে এবং যে বিষয়ে কাজ করছে সে বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠছে প্রতিনিয়ত। এ সেক্টটি এখনও সরকারের সুদৃষ্টি পায়নি। বর্তমানে প্রযুক্তি খাতে যেসব সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেগুলো সরকারের অজানা কিছু নয়। এই সেক্টরে খুব কম পুঁজি বিনিয়োগ করে অনেক বেশি লাভবান হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস'ানের সহায়ক হতে পারে আউটসোর্সিং। প্রয়োজন অবকাঠামো উন্নয়ন: দেশের তরুনেরা আউটসোসিং এ পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হল দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্তা। বিভাগীয় শহরে মোটামোটি সহজে ইন্টারনেট পাওয়া গেলেও বেশির ভাগ জেলা শহরে তেমন একটা সুবিধা নেই। যা আছে তা তেমন গতিময় নয়। এর সাথে ঘন ঘন লোডসেডিং তো রয়েছেই। এর সাথে ঘন ঘন লোডশেডিং তো রয়েছেই। বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় দুই কোটি ৮১ লাখ। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আরো বাড়ানো গেলেই দেশের তরুণসমাজকে আউটসোর্সিংয়ে আরো বেশি সম্পৃক্ত করা যাবে।

লেবেলসমূহ: , , , , ,

0টি মন্তব্য:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]

<< হোম