নিলা চৌধুরীর বয়স্ক জামাই
নিলা চৌধুরী, ঢাকার এক সম্ভ্রান্ত এলাকার পাঁচতলা বিল্ডিংয়ের মালিক। বয়স ত্রিশ ছুঁইছুঁই, রূপে-গুণে কারো অভাব নেই। বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া এই বিল্ডিং তার একমাত্র ভরসা। ভাড়া থেকে মাসে মোটা টাকা আসে, কিন্তু একা থাকাটা নিলার কাছে অভিশাপের মতো মনে হয়।
এমন সময় শহরে ফিরলেন সালাউদ্দিন আহমেদ, এক প্রাক্তন কলেজ প্রফেসর। বয়স প্রায় ৬০, চুলে পাক ধরা, কিন্তু ব্যক্তিত্বে অদ্ভুত এক আকর্ষণ। বিদেশ থেকে রিটায়ার করে এসে তিনি ঢাকায় শান্ত জীবন কাটাতে চান। কাকতালীয়ভাবে তিনি নিলার বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট ভাড়া নিলেন।
প্রথম পরিচয়ে নিলার চোখে ভেসে উঠল—এই মানুষটার ভেতরে যেন এক নিরাপদ আশ্রয় লুকানো আছে। বয়সে অনেক বড় হলেও সালাউদ্দিন সাহেবের কথায় ছিল মায়া, অভিজ্ঞতার জ্ঞান আর ভরসার আশ্বাস।
নিলা ধীরে ধীরে বুঝতে পারলো, টাকা আর বিল্ডিং থাকলেও জীবনের শূন্যতা শুধু একজন নির্ভরযোগ্য সঙ্গীর মাধ্যমেই পূরণ করা যায়। অন্যদিকে সালাউদ্দিনও নিলার সাহসী একাকীত্ব আর দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা দেখে মুগ্ধ হলেন।
একদিন ছাদে বসে নিলা হঠাৎ বলেই ফেলল—
“স্যার, আপনার ভাড়া না হয় আমি ফ্রি দিলাম… তবে শর্ত আছে, আপনি যেন এই ছাদটা আর আমার একাকীত্বটা কখনো ছেড়ে না যান।”
সালাউদ্দিন হেসে বললেন,
“ভাড়া নয় নিলা, আমি তবে তোমাকে আমার সবটুকু সময়, স্নেহ আর অভিজ্ঞতা দিয়ে দেব।”
সেই রাত থেকে পাঁচতলা বিল্ডিংটা আর শুধু ভাড়াটিয়ার ঠিকানা রইল না—বরং এক বয়স্ক স্বামী আর তরুণী স্ত্রীর নতুন সংসারের সূচনা হল।
সালাউদ্দিন আহমেদ ভাড়াটিয়া হয়ে আসার পর থেকেই নিলার জীবন যেন ধীরে ধীরে রঙে ভরে উঠছিল। একসময় যে ছাদে সে একা দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলত, এখন সেখানে দু’জনের হাঁটাহাঁটি, চায়ের কাপ ভাগাভাগি, বইয়ের পাতা উল্টে উল্টে গল্প করা।
এক সন্ধ্যায় হালকা বাতাসে শাড়ির আঁচল উড়ে গিয়ে নিলার মুখের ওপর পড়ল। সালাউদ্দিন সাহেব এগিয়ে এসে আলতো হাতে আঁচলটা সরিয়ে দিলেন। তাঁর চোখে নীরব মায়া ঝিলমিল করছিল। নিলা একটু লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে নিলেও ভেতরে ভেতরে বুকের ভেতর ঢেউ খেলে গেল।
কিছুদিন পর নিলা সাহস সঞ্চয় করে বলল—
“আপনি জানেন, আমি এতদিন ধরে বিল্ডিং ভাড়া দিয়ে বেঁচে আছি। কিন্তু আসলে ভাড়া নয়, আমি তো একটুকু ভালোবাসার খোঁজে ছিলাম।”
সালাউদ্দিন মৃদু হাসলেন, তারপর গম্ভীর কণ্ঠে বললেন—
“নিলা, বয়সের পার্থক্য তোমাকে কখনো ভয় দেখাবে না তো?”
নিলা এগিয়ে এসে তাঁর হাত দু’টো নিজের হাতে নিল,
“আমার কাছে বয়স নয়, আসল হলো আপনি আমাকে কীভাবে ভালোবাসেন। আমি চাই এমন কাউকে, যে শুধু বিল্ডিংয়ের ছাদ নয়, আমার হৃদয়ের একাকীত্বটাও নিজের করে নেবে।”
সেই মুহূর্তে দু’জনের চোখে অশ্রু আর হাসি মিলেমিশে গেল। চারপাশের আলো-আঁধারি যেন হঠাৎ রূপকথার মতো হয়ে উঠল।
তারপর থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ছাদে দাঁড়িয়ে দু’জন একসাথে সূর্যাস্ত দেখে। নিলার মনে হয়, এই শহরের আকাশও যেন তাদের জন্য নতুন রঙ মিশিয়ে দেয়।
পাঁচতলা বিল্ডিংটা এখন শুধু ইট-কাঠের দেয়াল নয়—এটা নিলা আর সালাউদ্দিনের প্রেমকাহিনির জীবন্ত সাক্ষী।
লেবেলসমূহ: নিলা চৌধুরী, নিলার বয়স্ক জামাই, নিলার বয়স্ক জামাই দরকার







