চৌতালির আপার দুবাই ভ্রমণ
চৌতালি একেবারে গ্রামের ছেলে। কিন্তু তার আছে এক খাস জিনিস—অসীম কৌতূহল। একদিন হঠাৎ খবর পেল, তার আপা তাকে দুবাই ঘুরাতে নিয়ে যাবে। আনন্দে সে লাফ দিয়ে উঠল, মনে হলো যেন চাঁদে যাচ্ছি!
প্লেনে প্রথম বসেই চৌতালি জানালা দিয়ে তাকিয়ে রইল। আকাশের মেঘ দেখে বলল—
“আপা, এত সাদা তুলো কই পাইছে? গ্রামের হাটে তো দেখি না।”
“ওগুলো মেঘ, তুলো না। শহুরে ছেলে হলে চিনতে।”
দুবাই পৌঁছেই চৌতালি হাঁ করে তাকাল চারপাশে। উঁচু উঁচু দালান দেখে সে আপাকে বলল—
“এই দালান যদি একবারে উঠতে হয়, লিফট ভাঙলে তো মানুষ বুড়ো হয়ে যাবে!”
প্রথমেই তারা গেল আপার্ট দুবাইয়ের হোটেলে। হোটেলের ঘরে ঢুকে চৌতালি টিভি দেখে চমকে উঠল—
“আপা, টিভিতে এত চ্যানেল! আমাদের গ্রামে তো একটা খারাপ হলে খবর দেখতে হাটে যেতে হয়।”
পরদিন সকালে আপা তাকে নিয়ে গেল বুর্জ খলিফাতে। উপরে উঠেই চৌতালি চিৎকার করে বলল—
“আপা, নিচের মানুষগুলো এত ছোট! মনে হচ্ছে পিঁপড়া হাঁটছে।”
তারপর তারা গেল দুবাই মল-এ। শপিং মলে ঢুকেই চৌতালি হারিয়ে গেল এক দোকান থেকে আরেক দোকানে। কাচের ভেতরে বিশাল অ্যাকুয়ারিয়াম দেখে সে আপাকে বলল—
“আপা, মাছগুলোকে কি ভাড়া দেয়? এত বড় বাড়ি!”
শেষদিনে আপা তাকে নিয়ে গেল মরুভূমির সাফারিতে। বালির টিলা বেয়ে গাড়ি যখন লাফাতে লাফাতে চলছিল, চৌতালি হাসতে হাসতে বলল—
“আপা, এই গাড়িটা তো আমাদের গ্রামের নৌকার মতো! ঢেউ না থাকলে কি চলে?”
গ্রামে ফিরে এসে সবাইকে সে গল্প শোনাতে লাগল—
“আরে, আপার কল্যাণে আমি আপার দুবাই ঘুরে এলাম! সেখানে ভবন আকাশ ছোঁয়, মাছ থাকে কাঁচের ঘরে, আর গাড়ি বালির।


0টি মন্তব্য:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]
<< হোম