বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নাবিলার অস্ট্রেলিয়ার বয়ফ্রেন্ড

 নাবিলা ছিলো ঢাকার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রামে খুবই একটিভ। একদিন অস্ট্রেলিয়ায় থাকা এক ছেলের সাথে তার পরিচয় হয় – নাম ড্যানিয়েল। ড্যানিয়েল আসলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, কিন্তু ছোটবেলা থেকেই সিডনিতে বড় হয়েছে।



প্রথমে দু’জনের কথাবার্তা শুরু হয় সাধারণভাবে – পড়াশোনা, মুভি, মিউজিক এসব নিয়ে। ধীরে ধীরে নাবিলা বুঝতে পারে, ড্যানিয়েলের মধ্যে একটা আলাদা কেয়ারিং ভাব আছে। সময় মিললেই সে ভিডিও কলে আসে, নাবিলাকে তার ক্যাম্পাস, সমুদ্রতীর, কফিশপ – সব দেখায়।


কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, নাবিলা মাঝে মাঝে তাকে নিয়ে একটু গুরাগুরি শুরু করে। যেমন –


হঠাৎ বলবে, "তুমি তো অনেক মিষ্টি, কিন্তু যদি গার্লফ্রেন্ড থাকে তাহলে আমাকে আগে বলে দিও!"


আবার কখনও ইমোজি দিয়ে টিজ করে, "কতজন মেয়েকে এমন মিষ্টি কথা বলো?"



ড্যানিয়েল হাসতে হাসতেই সামলাতো, বলত – "তুমি একমাত্র যাকে আমি এতটা সময় দিচ্ছি, নাবিলা।"


এভাবেই নাবিলার দিনগুলো কেটে যেতে লাগল নতুন এক উচ্ছ্বাসে। তবে তার ভেতরে একটা দ্বিধাও ছিলো – দূর দেশে থাকা বয়ফ্রেন্ডের সাথে আসলেই কি সম্পর্কটা টিকে থাকবে?


একদিন হঠাৎ ড্যানিয়েল জানালো, সে বাংলাদেশে আসছে। নাবিলা প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলো না। তখনই বুঝল, এতোদিনের গুরাগুরি হয়তো ধীরে ধীরে সত্যি গল্পে রূপ নিচ্ছে।

ড্যানিয়েল অবশেষে বাংলাদেশে এলো। নাবিলা তো উৎফুল্ল—মনে হচ্ছিলো স্বপ্ন সত্যি হলো। প্রথমবার যখন তারা গুলশানের এক কফিশপে দেখা করল, দু’জনই অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল। ভিডিও কলে যতবার দেখা হয়েছে, সামনাসামনি তাতে একেবারেই অন্যরকম অনুভূতি।


কফি খেতে খেতে দু’জনের কথা হচ্ছিলো, হঠাৎ ড্যানিয়েল গম্ভীর স্বরে বলল—

“নাবিলা, তোমাকে একটা কথা বলার ছিলো… কিন্তু ভয় পাচ্ছিলাম।”


নাবিলা আঁতকে উঠলো—“কি কথা?”


ড্যানিয়েল নিচু গলায় বলল—

“আমি এখানে শুধু তোমার সাথে দেখা করতে আসিনি। আমার বাবা-মা চায় আমি দেশে গিয়ে বিয়ে করি। তারা তোমাকে দেখে নিতে চায়।”


নাবিলার মাথা যেন ঝিম ধরে গেলো। এতোদিন ভেবেছিলো, এ শুধু ভার্চুয়াল ভালোবাসার খেলা—এখন বুঝলো বিষয়টা অনেক বেশি সিরিয়াস।


কিন্তু ড্রামা সেখানেই শেষ নয়।

সেই রাতে নাবিলা বাড়ি ফিরে দেখে, তার পরিবারও তার জন্য অন্য একটা প্রপোজাল ঠিক করছে—একজন বিদেশফেরত ডাক্তার! নাবিলা দোটানায় পড়ে গেলো। একদিকে অস্ট্রেলিয়ান বয়ফ্রেন্ড, যে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এসেছে তার জন্য, আরেকদিকে পরিবারের চাওয়া।


নাবিলা কি করবে?

ড্যানিয়েল কি তার পরিবারকে রাজি করাতে পারবে?

নাকি এই গল্পটা ভেঙে যাবে এক অসমাপ্ত ভালোবাসার নাটকে?

0টি মন্তব্য:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]

<< হোম