মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি, বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি, বঙ্গভবনে শপথ
ঢাকা | ২১ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির প্রবীণ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে রাষ্ট্রপতির শপথবাক্য পাঠ করান।
এর আগে বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। ১৯৯১ সালের পর এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে মির্জা ফখরুল আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শপথের পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানের পর নতুন কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীও শপথ নিয়েছেন।
নির্বাচনে কী হয়েছিল?
২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ভোট গণনার পর মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে সামনে কী?
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের ফলে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় নতুন নেতৃত্ব কার্যকর হলো।
রাজনৈতিকভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রপতির পদে তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
তবে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ক্ষমতা সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত। তাই নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক কাঠামোই মূল ভিত্তি হবে।
জনমনে আগ্রহ
নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কেমন হবে—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে থাকল।
জনতার মতামত: নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে দেশের মানুষের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা কী হওয়া উচিত—রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন, নাকি সাধারণ মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন