এখনকার দিনে এমনটা আসলে কেন হচ্ছে! একসময় মায়েদের ঘরভর্তি সন্তানসন্ততি থাকতো।
ছবিটির দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম। এখনকার দিনে এমনটা আসলে কেন হচ্ছে! একসময় মায়েদের ঘরভর্তি সন্তানসন্ততি থাকতো। প্রথমদিকের সন্তানেরা বিশেষ করে মেয়ে শিশুরা ছোট ভাইবোনদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতো। নিজেদেরই যখন খেলার বয়স সেই শৈশবে পুরোটা বিকেল কাটতো ছোট্ট ভাইবোনটিকে কোলে রেখেই। পুরো সকালটা যেতো রান্নাঘরের কাজে সহযোগিতায়। সন্ধ্যাটা, রাতটা ছোট ভাইবোনগুলোর কাঁথা পাল্টাতে পাল্টাতে আর ঘুম পাড়িয়েই পার হতো। মা হয়তো সেই সময় অন্য গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত থাকতেন অথবা লাগাতার সন্তান জন্মদানে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। ঘরের বড় সন্তানদের শৈশব কৈশোর কিভাবে হারিয়ে যেতো এই খোঁজ কেউ রাখতো না।
এখন আর মায়েরা সচরাচর অতো বেশি সন্তান নেন না। কিন্তু খুব ভুল একটা কাজ করেন। সন্তানকে অতি আগলে রাখতে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনের অনেক দক্ষতা অর্জন করার সুযোগ দেননা। বয়স পার হলেও তাই শিশুরা নিজের হাতে খেতে পারে না, নিজের ড্রেসটা, নিজের জুতোটা পরতে পারে না, এক কাপ চা বানাতে পারে না। অনেকটাই অকর্মণ্য এই জেনারেশন তৈরিতে আমরা মায়েরাই যে বহুলাংশে দায়ী তা সময়ে বুঝতে পারি না আমরা। তাই যখন আমি অসুখে পড়ে বিছানায় কাতর হচ্ছি আমার সন্তান তখন টেবিলে ঠিকঠাক খাবার না পেয়ে বিরক্ত হয়ে কলেজে যাচ্ছে। অথবা নাতি-নাতনীর যাবতীয় সকল দায়িত্ব আমার কাঁধে দিয়ে আমার ছেলে/মেয়ে দিব্যি রাতে আরাম করে ঘুমাচ্ছে আর দিনে শুয়ে বসে সময় কাটাচ্ছে। এই অনুভূতিহীনতার বীজটা কিন্তু আমিই বপন করেছিলাম ওর খুব ছোট্টবেলায়। 💔
শিশু ছেলে হোক বা মেয়ে- চলুন নিজের সব কাজে ওদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করি। ওদেরকে নিজের কাজ নিজে করতে উৎসাহিত করি। এখন ওরা চারাগাছ। জল দিয়ে, সার দিয়ে ওদেরকে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করি। শুধু সার্টিফিকেট নিয়ে অর্থ উপার্জনই তো স্ব-অবলম্বন না। নিজেই নিজের অবলম্বন হয়ে উঠুক ওরা- ঘরে, বাইরে, চিন্তায়, মেধায়, মননে। তীরটা আমি হাত থেকে ছুঁড়লেইতো সে লক্ষ্যে পৌঁছাবে তাই না।
~ Farida Akhter


0টি মন্তব্য:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]
<< হোম