##প্যারেন্টিং এবং আমাদের মায়েদের অবদানঃ
##প্যারেন্টিং এবং আমাদের মায়েদের অবদানঃ
আমি একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক এবং বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের প্রভাষক। আমার সরকারি চাকুরির সুবাদে আমার অফিস টাইম এবং পেশাগত জীবনের একটা অংশ প্রাকটিস করেই কাটিয়ে দিছি।আমার দিন শুরু হয় ভোর পাচটা থেকে উঠার মধ্যে দিয়ে।আর রাতে ঘুমিয়ে যাই ১২ টার মধ্যে।ব্যতিক্রম যে হয় না তা না।অফিস টাইম ৮ টু ২ঃ৩০ এবং চেম্বারের প্রাকটিস লাইফ ৪ টা থেকে ৯ টা।বাসায় ফিরতে ফিরতে ১০ টা।আমার এত কিছু ডিটেইলস বলার উদ্দেশ্যে এখনকার সিংগেল ফ্যামিলির মায়েদের প্যারেন্টিং নিয়া বিশাল কষ্টকর অনুভূতি গুলো শেয়ার করার উদ্দেশ্য। আমার ছেলের বয়স ৪ বছর এর একটু কম।মেয়ের বয়স ১১ মাস প্লাস।তো এই দুই বাচ্চা নিয়া সারাদিন যে ঝড় টা আমার স্ত্রীর উপর দিয়া যায় সেটা হয়তো লিখে প্রকাশ করা যাবেনা। আমার দুইটা বাচ্চাই সিজারিয়ান। তো সিজার পরবর্তী যে সমস্যা গুলো একজন মায়ের হয় সেটা হল কোমর ব্যাথা।বেশি সময় বসে কাজ করতে না পারা।ভারি কাজ না করতে পারা।বসলে স্বাভাবিক ভাবে উঠতে না পারা।তারমানে সিজারিয়ান মা তার জীবনের স্বাভাবিক কাজ গুলো শুরুতেই করতে পারেন না শুধুমাত্র বাচ্চা নেওয়ার জন্য।আমার স্ত্রী খুব নীরবে এই ত্যাগ করে যাচ্ছেন কোন অভিযোগ ছাড়াই। বড় বাচ্চার তিনবেলা নিয়ম করে খাওয়ানো, তার অন্যান্য জ্বালাতন যেমন ধরেন সারাদিন বিছানা অগোছালা করা,খেলনাগুলো অগোছালো করা,দোকান থেকে বিভিন্ন পদের খাবারের বায়না,বিকালে হাটতে বের হলে নানা রকম বায়না সবই নিরবে পালন করে।দুপুরে যদি না ঘুমায় তাহলে যে পেইন সে দেয় সেটা আর না বলি।বাথরুমের পানিতে নানারকম কলাকৌশল ব্যবহার করা।,লবন,মরিচের গুড়া,হলুদের গুড়া,জিরার গুড়া, এগুলো দিয়ে রান্নার কলাকৌশল এপ্লাই করা।সবই সামলানোর কাজ টা আমার স্ত্রী ই করেন কোন অভিযোগ ছাড়াই। আর ছোট টার সকাল শুরু হয় ভোর চারটায় উঠা নিয়ে।সেখান থেকে এই যে জেগে থাকবে একটানা সকাল অব্দি।৫ঃ৩০ বাজার পর থেকেই শুরু হয় তার বাইরে যাওয়ার জন্য কান্না।৬ টার দিকে হয় আমি যাই নাহয় আমার স্ত্রী যায়।কোন অভিযোগ ছাড়াই। রাতের বেলা তাকে কয়েকবার ঘুম থেকে উঠে খাওয়ানোর কাজ টা আমার স্ত্রী ই করে খুব যত্ন করে কোন অভিযোগ ছাড়াই। সারাদিন প্রসাব পায়খানার কাপড় গুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপার তো আছেই।অসুস্থ হলে তার আলাদা সেবা যত্ন তো আছেই।বাসায় মেহমান আসলে তাদের আলাদা মেহমান দারি।রোজ একই কাজ,একই রুটিন একই পেইন,একই ঝড়।কোন বিশ্রাম নাই,নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কোন অভিযোগ ছাড়াই।কোন ছুটি নাই,কোন বিনোদন নাই।একই কাজ।এর পরে ও আমাদের মায়েদের নিয়ে অভিযোগ এর শেষ নাই।রান্নার কাজে আমি আমার স্ত্রী কে সহযোগিতা করি।কিছু কাজ ভাগ করে নেই।তাতে আমার উপর প্রেসার পড়ে তবু হাসিমুখে মেনে নেই।আমার মেয়েটা তিন মাস ধরে অসুস্থ ছিল।এই সময় টা আমরা খুব ক্রাইসিস মোমেন্ট পার করেছি।আত্নীয় স্বজন অনেকেই খোজ নেয় নাই।তাতে আমরা বিন্দুমাত্র ভেংগে পড়িনি।নতুন সকাল নতুন ভাবে শুরু করেছি।নামাজে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছি।নিজেদের উপর বিশ্বাস রেখেছি।এত কিছু লেখার উদ্দেশ্যে একটাই প্যারেন্টিং একটা চ্যালেঞ্জ। এখানে পেইন গুলো নেওয়ার শক্তি থাকতে হবে।আসবে নতুন চ্যালেঞ্জ। ধৈরয ধরার বিকল্প কিছুই নাই।কারোর উপর অভিযোগ নয়।স্যাক্রিফাইস ই আপনার সব সমস্যার সমাধান। আজকাল ফেসবুকে অনেক কেই দেখি নিজের হাজবেন্ড বা স্ত্রীর উপর দোষ আরোপ করে পোস্ট দিতে। তাতে কোন লাভ নেই।ক্ষতি ছাড়া। এতে সম্পর্কে ফাটল ধরে।ক্রোধ নয় ক্ষমা করতে শিখুন।নিজের স্ত্রীর প্রাপ্য সন্মান টুকু দিন।দিনশেষে আপনি ই জয়ী হবেন।
হ্যাপি প্যারেন্টিং।

0টি মন্তব্য:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]
<< হোম