শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২১

"যখন আমার স্ত্রী আমাদের প্রথম সন্তানের জন্ম দেয়,তখন

 "যখন আমার স্ত্রী আমাদের প্রথম সন্তানের জন্ম দেয়,তখন আমার বয়স ৩০ এর বেশি নয়।সেই রাতটির কথা আজও আমার মনে আছে।



প্রতিদিনকার অভ্যাসমত, ঐ রাতটির পুরো সময় আমি বাইরেই কাটিয়েছি আমার বন্ধুদের নিয়ে।পুরো রাত কাটে গল্পে,আড্ডায় এবং লোকজনকে উপহাস করে।আমি ছিলাম তেমনই একজন, যারা মানুষকে হাসাতে পারতো।আমি অন্যদের নিয়ে উপহাস করতাম, ঠাট্টা করতাম,আর আমার বন্ধুরা এসব দেখে শুধুই হাসতো।

সেই রাতে আমি বুঝতে পারলাম, আমি তাদেরকে প্রচুর হাসাতে পারি।মানুষকে নকল করার অসাধারন এক ক্ষমতা আমার ছিলো।কারো স্বর নকল করে তাকে উত্যক্ত করতে পারতাম।

আমার এই ঠাট্টা - মশকারি থেকে কেউই রেহাই পাচ্ছিলোনা, এমনকি আমার বন্ধুরাও না।

আমার এসব ঠাট্টা থেকে বাঁচার জন্য তাদের কেউ কেউ আমাকে তখন এড়িয়ে চলছিল।

আমি এখনও মনে করতে পারি, সে রাতে আমি একজন অন্ধ ভিক্ষুককে নিয়ে ঠাট্টা করেছিলাম যে মার্কেটের রাস্তার ধারে ভিক্ষা করছিলো।সেটা ছিল খুব শোচনীয়! সে যখন অন্ধকারে আসছিলো, আমি তখন তার সামনে আমার পা বসিয়ে দিলাম।সে ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেলো এবং চারদিকে মাথা ঘুরিয়ে দেখছিলো কে তাকে ল্যাঙ মেরে মাটিতে ফেলে দিলো।কিন্ত সে কিছুই বলতে পারছিলো না।

.

আমি বাড়িতে ফিরলাম, যেরকম দেরি করে প্রত্যেকদিনই ফিরি, এবং দেখলাম আমার স্ত্রী আমার জন্য তখনও অপেক্ষা করছিলো।

তার অবস্থা ছিলো ভয়ানক রকম খারাপ।সে কম্পিত গলায় জিজ্ঞেস করলো,- 'রাশেদ, তুমি এতক্ষন কোথায় ছিলে?'

- 'কোথায় থাকবো? মঙ্গলগ্রহে?' - আমি ব্যাঙ্গাত্মকভাবে উত্তর দিলাম - 'অবশ্যই বন্ধুদের সাথে ছিলাম।'

তাকে ক্লান্ত লাগছিলো।সে কান্না চাপা স্বরে বললো,- 'রাশেদ, আমি খুবই ক্লান্ত।আমার মনে হয় একটু পরেই আমাদের সন্তান পৃথিবীতে আসতে যাচ্ছে।'

এইটুকু বলতেই এক ফোঁটা অশ্রু তার চোখ বেয়ে বুকে গড়িয়ে পড়ল।

আমি তখন বুঝতে পারলাম, আমি তাকে অবহেলা করছি।আমার উচিত ছিল তার যত্ন নেওয়া, অন্তত সে যতদিন গর্ভবতী আছে,ততদিন।

এই দিনগুলো বাইরে নষ্ট করা আমার একদম ঠিক হয়নি। দ্রুত তাকে আমি হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।তাকে ডেলিভারি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হলো।সে তখন ভয়ানক প্রসব বেদনার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলো।

আমি উদ্বিগ্নতা নিয়ে আমাদের সন্তান জন্ম নেওয়ার অপেক্ষা করছিলাম।কিন্ত আমার স্ত্রীর ডেলিভারিটা কঠিন ছিল।

আমি ততক্ষন পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলাম যতক্ষন না ক্লান্ত হচ্ছি।হাসপাতালে আমার স্ত্রীর সেবায় কর্তব্যরত নার্স মহিলাকে আমার ফোন নাম্বার দিয়ে আমি বাসায় চলে এলাম,যাতে তারা আমাকে ফোনে সুসংবাদটা দিতে পারে।এক ঘণ্টা পরে, তারা ফোন দিয়ে আমাকে আমার পুত্র সালেমের জন্মের অভিবাদন জানালো।আমি তাড়াতাড়ি করে হাসপাতালে চলে এলাম।যখনই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে দেখলো, তারা আমাকে আমার স্ত্রীর ডেলিভারিতে কর্তব্যরত চিকিৎসকের সাথে দেখা করতে বললো।

আমি চিৎকার করে বললাম,- 'কিসের ডাক্তার? আমি এক্ষুনি আমার ছেলেকে দেখতে চাই।'

তারা বললো,- 'প্লিজ, আগে ডাক্তারের সাথে দেখা করুন।'

আমি ডাক্তারের কাছে গেলাম।তিনি আমাকে আমার স্ত্রীর ভয়াবহ ডেলিভারির কথা বললেন।

এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে বললেন।

.

তারপর তিনি বললেন,- 'আপনার সন্তানের চোখে সমস্যা আছে।সম্ভবত সে কখনোই চোখে দেখবেনা।'

আমি কোনরকমে কান্না চেপে ধরে মাথা নিচু করে ফেললাম। আমার মনে পড়লো সেই অন্ধ ভিক্ষুকের কথা, যাকে মার্কেটে আমি ল্যাঙ মেরে ফেলে দিয়েছিলাম অন্যদের হাসানোর জন্য।

সুবাহান-আল্লাহ! আপনি তাই পাবেন,যা আপনি দেবেন।

তখন আমি কি বলবো তাই ভেবে পাচ্ছিলাম না।হঠাৎ আমার স্ত্রী আর সদ্যজাত সন্তানের কথা মনে পড়ল। ডাক্তারকে তার দয়ার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে আমি আমার স্ত্রী আর সন্তানকে দেখতে গেলাম।

আমার স্ত্রীকে আমি মোটেই বিষন্ন দেখলাম না।আল্লাহর উপর তার বিশ্বাস ছিলো।সে ছিল সন্তুষ্ট।

সে কতোবারই না আমাকে বলতো,- 'মানুষকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকারি করো না।'

সে আমাকে বারবার এই কথা বলতো।আমি শুনতাম না।

.

পুত্র সালেমসহ আমরা হাসপাতাল থেকে বাসায় চলে এলাম।

বাস্তবে, আমি সালেমের প্রতি উদাসীন ছিলাম।মনে করতাম, সালেম আমাদের পরিবারেই থাকেনা।সে আমাদের কেউ না,এরকম।

যখন সে জোরে জোরে কান্না করতো, তখন আমি ঘুমানোর জন্য অন্য কক্ষে চলে যেতাম।

কিন্ত আমার স্ত্রী তার খুব যত্ন করতো।তাকে অনেক ভালোবাসতো।

নিজের ক্ষেত্রে, আমি তাকে ঘৃণা করতাম না।কিন্ত এও ঠিক যে, আমি তাকে ভালোও বাসতে পারতাম না।

সালেম আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে।হামাগুড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছে।যখন তার বয়স এক বছর, সে তখন হাঁটার চেষ্টা করছিলো।তখন আমরা লক্ষ্য করলাম, সে আসলে প্রতিবন্ধী।

আমি তখন তাকে আমার উপর বোঝা মনে করলাম।

.

সালেমের পর আমার স্ত্রী আরো দু'টি সন্তানের জন্ম দেয়।উমর এবং খালেদ।

বছর যেতে লাগলো।সালেম বড় হচ্ছিলো।সাথে উমর এবং খালেদও।বাসায় থাকতে আমার ভালো লাগতোনা।আমি আগের মতোই বেশিরভাগ সময় বন্ধুদের সাথে বাইরে বাইরে কাটাতাম।

আমার এরকম আচরনে আমার স্ত্রী কখনোই আশা ছেড়ে দেয়নি।সে সবসময় আমার হিদায়াতের জন্য দো'য়া করতো।আমার এহেন আচরণে সে কখনোই রাগ করতোনা।কিন্ত সে মনে মনে খুব কষ্ট পেতো, যখন সে দেখতো আমি পুত্র সালেমকে অবহেলা করে অন্য দু'জনকে আদর করছি।সালেম বড় হচ্ছিলো আর সাথে বাড়ছিল আমার দুশ্চিন্তাও।

আমার স্ত্রী যখন তাকে একটি ভাল প্রতিবন্ধী স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিতে বললো, আমি আপত্তি জানাইনি।

কতগুলো বছর যে চলে গেলো, আমি বুঝতেই পারলাম না।আমি দিনগুলো ছিল আগের মতই।

খাওয়া-কাজ-আড্ডা-ঘুম। এভাবেই।

এক শুক্রবার। আমি বেলা এগারোটা'য় ঘুম থেকে উঠলাম।বলা চলে,প্রতিদিনের তুলনায় সেদিন আমি অনেক ভোরেই জেগেছি।কারন, আমার এক জায়গায় দাওয়াত ছিলো।আমি কাপড় পরে,গায়ে পারফিউম মেখে বের হতে যাচ্ছিলাম।

যখনই আমি আমাদের বেডরুম অতিক্রম করছিলাম, আমি দেখলাম, সালেম একা একা কাঁদছে।

তার জন্মের পর এই প্রথমবার আমি তাকে নিজ চোখে কাঁদতে দেখছি।দশ বছর কেটে গেলো,কিন্ত এতদিন আমি তার দিকে একটু নজরও দিইনি।এবারও আমি তাকে ইগনোর করতে চেয়েছিলাম,কিন্ত কেন যেন পারলাম না।

আমি শুনলাম, সে কান্না করছে আর তার মা'কে ডাকছে।

আমি এই প্রথমবার তার কাছে গেলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম,- 'সালেম, তুমি কাঁদছো কেনো?'

আমার কণ্ঠ শোনামাত্র সে কান্না থামালো।আমাকে তার এত কাছে পেয়ে সে তার ছোট ছোট হাত দুটি হাতড়িয়ে আমাকে অনুভব করার চেষ্টা করতে লাগলো।সে তখনও বুঝতে পারছে না তার সাথে কি হচ্ছে।

আমি খেয়াল করলাম, সে আমার থেকে দূরে চলে যাচ্ছে।যেন সে ঘৃণাভরে আমাকে বলতে চাচ্ছে,- ''এতদিনে আমাকে তোমার মনে পড়লো? এই দশ বছর কোথায় ছিলে?''

আমি তাকে অনুসরন করলাম।দেখলাম, সে তার রুমের দিকে চলে গেলো।

প্রথমে সে তার কান্নার কারণ আমাকে বলতে চায়নি।আমি তার সাথে শান্তভাবে কথা বলতে লাগলাম।এরপর সে আমাকে তার কান্নার কারন বললো।সে যখন আমাকে তার কান্নার কারন বলছিলো, আমি তা শুনছিলাম আর কাঁপছিলাম।

বলতে পারো কি সেই কারন?

তার ছোট ভাই উমর, যে তাকে ধরে ধরে প্রতিদিন মসজিদে নিয়ে যায়, সে এখনও তাকে নিতে আসেনি।সালেমের ভয় হচ্ছিলো, না জানি আবার মসজিদে যেতে দেরি হয়ে যায় আর সে মসজিদের সামনের কাতারে বসার জায়গা না পায়।

তাই সে উমর আর তার মা'কে চিৎকার করে ডাকছিল।কিন্ত তারা কেউই সাড়া দিচ্ছেনা দেখেই সে কাঁদছিল।

.

আমি সালেমের পায়ের কাছে বসে গেলাম।দেখলাম,তখনও সালেমের চোখ বেয়ে অঝোর ধারায় অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।

তার পরের কথাগুলো আমি আর সহ্য করতে পারছিলাম না।আমি আমার হাত দিয়ে তার চোখের জল মুছে দিতে দিতে বললাম,- 'এইজন্যেই কি তুমি কাঁদছিলে,সালেম?'

- 'জ্বি' - সে বললো।

আমি আমার বন্ধুদের কথা ভুলে গেলাম,দাওয়াতের কথা ভুলে গেলাম।

আমি বললাম,- 'সালেম, কেঁদোনা।তুমি কি জানো আজ কে তোমাকে মসজিদে নিয়ে যাচ্ছে?'

সালেম বললো,- 'উমরই নিয়ে যাবে।কিন্ত সে সবসময় দেরি করে ফেলে।'

-- 'না সালেম।আজ আমিই তোমাকে মসজিদে নিয়ে যাবো।'- আমি বললাম।

সালেম খুব অবাক হলো।সে কিছুতেই এটা বিশ্বাস করতে পারছিলোনা।সে ভেবেছে, আমি তার সাথে ঠাট্টা করছি।সে আবার কাঁদতে লাগলো।

আমি আমার হাত দিয়ে তার চোখের জল মুছে দিলাম, এবং আমার হাত তার হাতের উপর রাখলাম।আমি তাকে আমার গাড়িতে করে মসজিদে নিয়ে যেতে চাইলাম,কিন্ত সে আপত্তি জানালো।সে বললো,- 'মসজিদ খুব কাছেই।আমাকে ধরে নিয়ে যান।'

.

শেষ কবে যে আমি মসজিদে ঢুকেছিলাম আমার মনে নেই।কিন্ত এতবছর ধরে যা পাপ আমি করেছি,তার জন্যে এই প্রথম আমার মনের ভেতর ভয় এবং অনুতাপ অনুভব করলাম।

পুরো মসজিদ মুসল্লিতে ভরপুর ছিল।কিন্ত তবুও আমি দেখলাম, একদম সামনের কাতারে সালেমের জন্য একটা খালি জায়গা রেখে দেওয়া আছে।আমরা একসাথে জুমার খুতবা শুনলাম।সালেম আমার পরে পরে রুকু-সিজদাতে যাচ্ছিলো, কিন্ত বাস্তবপক্ষে, মনে হচ্ছিলো, আমিই তার পরে পরে রুকু-সিজদা করছি।

নামাজের পর সে আমাকে একটি কুরআন এনে দিতে বললো।আমি অবাক হলাম।সে তো অন্ধ।সে কি করে কুরআন তেলাওয়াত করবে?

আমি তার অনুরোধ প্রায়ই প্রত্যাখ্যান করতে চাইলাম,কিন্ত তখন তার অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এরকম কিছু করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিলোনা।আমি তাকে একটি কুরআন এনে দিলাম।সে আমাকে বললো কুরআনের সূরা কাহফ খুলে দিতে।আমি কুরআনের পৃষ্ঠা উল্টাতে লাগলাম আর সূচিপত্র দেখে সূরা কাহফ খুঁজতে লাগলাম।

সে আমার হাত থেকে কুরআন নিয়ে নিল।সেটি তার সামনে ধরলো আর সূরা কাহফ [কুরআনের ১৮নং সূরা] তিলাওয়াত করতে লাগলো।

ইয়া আল্লাহ! পুরো সূরা কাহফ তার মুখস্ত!!

.

আমি নিজেই নিজের প্রতি লজ্জিত হলাম।আমিও একটি কুরআন হাতে নিলাম।তখন আমার পুরো শরীর কাঁপছিল।আমি কুরআন তিলাওয়াত করেই যাচ্ছি।আমি আল্লাহর কাছে বারবার মাফ চাইছিলাম আর বলছিলাম, - 'হে আল্লাহ! আমাকে সিরাতুল মুস্তাকিমের পথ দেখাও।'

আমি এভাবে আর থাকতে পারলাম না।আমি মুহূর্তেই শিশুর মতো কান্না শুরু করলাম।

সেখানে তখনও কিছু মুসল্লি ছিল যারা সুন্নাত আদায় করছিলো।আমি লজ্জিত হলাম।তাই আমি কোনরকমে আমার কান্না চেপে যেতে চাইলাম।আমার চাপা কান্না দীর্ঘায়িত হলো আর শরীর কাঁপছিলো।আমি তখন খেয়াল করলাম, একটি ছোট্ট হাত আমার মুখমণ্ডল স্পর্শ করছে আর আমার চোখের জল মুছে দিচ্ছে।এটা ছিল আমার পুত্র সালেম।

আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম।বললাম, - 'সালেম, তুমি অন্ধ নও।অন্ধ তো আমি, যে অসৎ সঙ্গীর পাল্লায় পড়েছি যারা আমাকে জাহান্নামের দোরগোড়ায় নিয়ে যাচ্ছে।'

.

আমরা বাড়ি চলে এলাম।ততক্ষনে আমার স্ত্রী সালেমের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লো।কিন্ত তার উদ্বিগ্নতা আনন্দাশ্রুতে পরিণত হল, যখন সে জানতে পারলো সালেমের সাথে আমিও জুমা'হ আদায় করেছি।

সেদিন থেকে, আমি আর এক ওয়াক্ত সলাতও ছাড়িনি।আমি আমার খারাপ বন্ধুগুলোকে ত্যাগ করলাম এবং মসজিদে নিয়মিত সলাত আদায় করে এরকম কিছু মানুষকে বন্ধু করে নিলাম।

তাদের সাথে মিশতে মিশতে আমি ঈমানের স্বাদ অনুভব করতে লাগলাম।তাদের কাছ থেকে আমি এমন কিছু শিখছিলাম যা আমাকে এই দুনিয়া নয়,পরের দুনিয়া সম্পর্কে ভাবাতে লাগলো।

আমি কোন ধর্মীয় বক্তৃতা মিস করতাম না।প্রায়ই আমি পুরো কুরআন তিলাওয়াত করে ফেলতাম,অনেক সময় সেটা এক মাসের মধ্যেই।

আমি সবসময় আল্লাহর স্মরণে থাকতাম।ভাবতাম, তিনি অবশ্যই আমার পূর্বের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।আমি আমার পরিবারের দিকে মন দিলাম।আমার স্ত্রীর চোখে-মুখে সবসময় যে ভয়ের রেখা দেখা যেত,সেটি আর নেই।এক টুকরো হাসি আমার ছেলে সালেমের মুখে লেগেই থাকতো।যে কেউ তার এই হাসি দেখতো, তারা বুঝতে পারতো, সে সম্ভবত দুনিয়ার সবকিছুই অর্জন করে ফেলেছে।আল্লাহর এই বিশেষ রহমতের জন্য আমি তার শুক'রিয়া আদায় করলাম।

.

একদিন আমার ঈমানী বন্ধুরা মানুষকে ঈমানের দাওয়াত দেওয়ার জন্য কিছু দূরে যাওয়ার প্ল্যান করলো।আমি যাবো কি যাবো না, এটা নিয়ে দ্বিধায় ভুগছিলাম।আমি ইস্তিখারা করছিলাম আর আমার স্ত্রীর সাথে এই বিষয়ে পরামর্শ করছিলাম।

আমি ভেবেছিলাম সে আমায় যেতে নিষেধ করবে।কিন্ত হলো তার উল্টোটি।সে এটা শুনে খুবই খুশি হলো,এবং উপরন্তু আমাকে যেতে উৎসাহ দিলো।কারণ, সে ইতিপূর্বে কখনো কোথাও যাওয়ার আগে আমাকে তার সাথে পরামর্শ করতে দেখেনি।

আমি সালেমের কাছে গেলাম,এবং বললাম যে আমাকে কিছু দিনের জন্য দাওয়াতি কাজে বেরোতে হবে।

সে অশ্রুসজল চোখে আমার দিকে তার দুই বাহু প্রসারিত করে দিলো।

আমি প্রায়ই সাড়ে তিন মাসের মত বাইরে ছিলাম।তখন আমি যখনি সুযোগ পেতাম,ফোনে আমার স্ত্রী আর সন্তানদের সাথে কথা বলতাম।

আমি তাদের অনেক মিস করতাম।বিশেষ করে সালেমকে।আমি তার কণ্ঠ শোনার জন্য ব্যাকুল ছিলাম কিন্ত আমি চলে আসার পর সবার সাথে কথা হলেও,শুধু তার সাথে আমার কথা হয়নি।

আমি যখনই বাড়িতে ফোন করতাম,তখন হয় সে স্কুলে থাকতো,নয়তো মসজিদে।যখনই আমি আমার স্ত্রীকে বলতাম যে, সালেমকে আমি কতোটা মিস করছি, তখন সে আনন্দে,গর্বে হাসতো, শুধু শেষবার যখন ফোনে কথা বলি সেবার ছাড়া।তার কণ্ঠস্বর পাল্টে গেল।আমি বললাম,- 'সালেমকে আমার সালাম দিও।'

সে শুধু বললো,- 'ইনশাআল্লাহ! এরপর চুপ করে গেলো।'

.

আমি বাড়ি এলাম।দরজায় নক করলাম।আমি ভেবেছিলাম যে, সালেমই আমার জন্য দরজা খুলে দিবে।কিন্ত আমাকে অবাক করে দিয়ে খালেদই দরজা খুলে দিলো যার বয়স চার বছরের বেশি ছিল না।

সে যখন আমাকে 'বাবা বাবা' বলে ডাকছিল,তখন আমি তাকে কোলে তুলে নিলাম।কেন জানিনা, যখন থেকে ঘরে ঢুকলাম,তখন থেকেই আমার মনের ভেতর একটা ভয় কাজ করছিলো।

আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আল্লাহর পানাহ চাইলাম।আমি আমার স্ত্রীর কাছে গেলাম।তার চেহারা ছিলো ভিন্ন।যেন সে ভাল থাকার অভিনয় করছে এরকম।

.

আমি তাকে বললাম,- 'কি হয়েছে তোমার?'

- 'কিছু না।'- সে জবাব দিলো।

হঠাৎ, আমার সালেমের কথা মনে পড়লো।আমি বললাম,- 'সালেম কোথায়?'

সে কিছুই বললনা।মাথা নিচু করে ফেললো।তার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো।

আমি কান্না শুরু করলাম।চিৎকার করে বললাম,- 'সালেম, কোথায় সালেম?'

তখন দেখলাম, আমার চার বছরের ছেলে খালেদ তার মতো করেই বলছে, - 'বাববা! তালেম দান্নাতে তলে গেথে আল্লাহর তাতে!' 

আমার স্ত্রী এটা সহ্য করতে পারল না।সে ফ্লোরে পড়ে গেলো আর দ্রুত রুম ছেড়ে চলে গেলো।

পরে আমি জানতে পারলাম, আমি যাওয়ার দুই সপ্তাহ পরে সালেম জ্বরে আক্রান্ত হয়।আমার স্ত্রী তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।কিন্ত সে আর সেরে ওঠেনি।


ইহকালীন জীবনে শেষবারের মত ঘুমিয়ে গেলো, কিন্তু যাবার আগে একজন চিরঘুমন্ত মানুষকে জাগিয়ে দিয়ে গেলো, যে কখনোই নিজে থেকে জেগে উঠতে চায়নি।"


[[ একটি ইংরেজি ম্যাগাজিন পেপার থেকে সংগৃহিত, রাশেদ নামের এক বাবার হিদায়াতের বাস্তব গল্প। অসাধারণ এই লেখাটি অনুবাদ করেছেন আরিফ আজাদ ]]

লেবেলসমূহ: ,

ছেলেকে দেওয়া একজন আদর্শ বাবার উপদেশঃ


 ছেলেকে দেওয়া একজন আদর্শ বাবার উপদেশঃ


১. জুতা সেলাই বা রং করতে চাইলে মেরামতকারীর দোকানের সামনে পা বাড়িয়ে দিওনা, বরং জুতাটা খুলে নিজে একবার মুছে দিও !


২. কখনও কাউকে কামলা, কাজের লোক বা বুয়া বলে ডেকোনা । মনে রেখো তারাও কারো না কারো ভাই, বোন, মা, বাবা । তাদেরকে সম্মান দিয়ে ডেকো !


৩. বয়স, শিক্ষা, পদ বা পদবীর দিক দিয়ে কেউ ছোট হলেও কখনো কাউকে ছোট করে দেখবে না, নইলে তুমি ছোট হয়ে যাবে !


৪. পড়াশুনা করে জীবনে উন্নতি করো, কিন্তু কারো ঘাড়ে পা দিয়ে উপরে উঠার চেষ্টা করবে না !


৫. কাউকে সাহায্য করে পিছনে ফিরে চেওনা, সে লজ্জা পেতে পারে !


৬. সব সময় পাওয়ার চেয়ে দেয়ার চেষ্টা করো বেশি । মনে রেখো, প্রদানকারির হাত সর্বদা উপরেই থাকে !


৭. এমন কিছু করবে না- যার জন্য তোমার এবং তোমার পরিবারের উপর আঙুল ওঠে !


৮. ছেলে হয়ে জন্ম নিয়েছো, তাই দায়িত্ব এড়িয়ে যেওনা !


৯. তোমার কি আছে তোমার গায়ে লেখা নেই । কিন্তু তোমার ব্যবহারে দেখা যাবে তোমার পরিবার কোথায় আছে !


১০. কখনও মার কথা শুনে বউকে এবং বউয়ের কথা শুনে মাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিও না, কাউকে ফেলতে পারবে না !


১১. কারও বাসায় নিমন্ত্রন খেতে গেলে বাসায় দু-মুঠো ভাত খেয়ে যেও । অন্যের পাতিলের ভাতের আশায় থাকবে না !


১২. কারো বাসার খাবার নিয়ে সমালোচনা করবে না । কেউ খাবার ইচ্ছে করে অস্বাদ করার চেষ্টা করে না !


১৩. বড় হবার জন্য নয়, মানুষ হবার জন্য চেষ্টা করো !


১৪. শ্বশুর কিংবা শাশুড়িকে এতটা সম্মান দিও, যতটুকু সম্মান তোমার বাবা-মাকে দাও এবং তাদের প্রতি এমন আচরন করো, যাতে করে তাদের মেয়েকে তোমার বাড়ি পাঠানোর জন্য উতলা থাকে !


১৫. সব সময় ভদ্র ও নম্রভাবে চলো এবং কথা বলো, কিন্তু অন্যায়ের সাথে আপোষ করবে না !


১৬. নিয়মিত অর্থসহকারে কুরআন, হাদীস, ইসলামী সাহিত্য অধ্যায়ন করো ! 


১৭. নামাজে কোন প্রকার গাফলতি করবে না !


১৮. আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রেখো না । আগামীকাল আমি দেখবো কেউ জানে না !


১৯. সকল গুনাহের মা হলো মিথ্যা কথা বলা কাজেই মিথ্যাকে পরিহার করো !


২০. ছোট ছোট গুনাহের কাজ ছোট্ট মনে করে অবলীলায় করে ফেলো না আবার ছোট্ট সাওয়াবের কাজ মনে করে অবহেলা করো না !


সংগৃহিত

শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১

পায়খানার সাথে কিংবা পায়ুপথে রক্ত যাওয়ার ঘটনা অনেকেই শুনেছি আমরা। কমন যেসব কারণে এটা ঘটে, তা হলোঃ

 #শিশুদের_আইবিডি_একটা_উদীয়মান_Emerging_রোগ


পায়খানার সাথে কিংবা পায়ুপথে রক্ত যাওয়ার ঘটনা অনেকেই শুনেছি আমরা। কমন যেসব কারণে এটা ঘটে, তা হলোঃ



১. এলার্জিক কোলাইটিস, যা সাধারণত ছোট বাচ্চাদের হয়। এটা খাবারের সাথে সম্পর্কিত। 


২. ইনফেকশাস কোলাইটিস বা ইনভ্যাসিভ ডায়রিয়া। এটা যে কোনো বয়সেই হতে পারে, যা আমাদের কাছে রক্তআমাশয় নামে পরিচিত। এটি জীবাণুর সংক্রমণে হয় যেমনঃ ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস, প্যারাসাইট।


৩. Constipation with anal fissure: কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে পায়ুপথ ছিড়ে/ফেটে গিয়ে হয়। ফিশার অবশ্য ক্রনিক ডায়রিয়া থেকেও হতে পারে।


৪. পলিপঃ নাম শুনেছি প্রায় সবাই। তবে চিকিৎসা যেনো কলোনোস্কপির মাধ্যমে হয়। পায়ুপথের নিম্নতম অংশের গুলি কেউ হয়তো আঙুল দিয়ে ফেলে দিয়ে বাহাদুরি দেখাতে পারে। কিন্তু বৃহদন্তের দূরবর্তী অংশে আরো পলিপ রয়ে গেল কিনা, তা অজানা থাকবে। 


৫. আইবিডিঃ এটি সাধারণত ১০ বছরের পর হয়, তবে আগেও হতে পারে। আমরা ইতিমধ্যে ২০ মাসের বাচ্চার আইবিডি ডায়াগনোসিস করতে পেরেছি।


অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে vascular malformation বা অন্ত্রের রক্তনালীর গঠনগত ত্রুটি, রক্ত জমাটবাধা সংশ্লিষ্ট রোগ, meckels diverticulum, Sepsis with DIC, কিছু সিস্টেমিক ডিজিজ যেমন HSP, SLE ইত্যাদি। 


বয়সভিত্তিক এবং প্রেজেন্টেশনের ভ্যারিয়েশন, শারীরিক পরীক্ষা, পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস এবং কিছু ইনভেস্টিগেশনের মাধ্যমে রোগগুলোকে সহজেই আলাদা করা যায়, যদিও ইনভেস্টিগেশন ফ্যাসিলিটির অভাবে midgut এর সমস্যাগুলো অধরা থেকে যাচ্ছে।


আজকের মুল আলোচনার বিষয় হল, শিশুদের আইবিডি (Inflammatory bowel disease) নিয়ে। রোগটাকে গুরুত্ব দেয়ার কারণ হল, পশ্চিমা বিশ্বের মত আমাদের দেশেও এই রোগটা বেড়ে চলেছে। সাম্প্রতিক শিশুদের এন্ডোস্কপি এবং কলোনোস্কপির সহজলভ্যতা এবং High degree of suspicion এর কারণে আমরা বেশ কিছু রোগী পাচ্ছি যা আজ থেকে ১০ বছর আগেও কল্পনা করা যেতোনা।


কমন প্রেজেন্টেশন হল ক্রনিক ডায়রিয়া, পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়া, পেট ব্যাথা, পায়ুপথে ব্যথা, ওজন বা উচ্চতা না বাড়া ইত্যাদি। এছাড়া জয়েন্ট ব্যথা বা arthritis, চোখের বিভিন্ন সমস্যা, ত্বকের সমস্যা, জন্ডিস, বিলম্বিত বয়সন্ধি ইত্যাদি হতে পারে। কারো হতে পারে মুখের ঘা কিংবা পায়ুপথের নানাবিধ সমস্যা।পেটের কোনো সমস্যা ছাড়া শুধুমাত্র growth failure নিয়ে রোগী কাটিয়ে দিতে পারে মাস থেকে বছর। নেগ্লেক্টেড কেইসগুলো আসতে পারে জটিলতা নিয়ে।


রোগটা যেহেতু ইম্যুনোলজিকেল, তাই এটি ইনফেকশন দ্বারা ট্রিগার হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে এন্টিবায়োটিক দিলে সাময়িক উপশম হতে পারে। আবার বাংলাদেশে TB prevalence বেশী বলে কিছু রোগীকে পেটের যক্ষা বা Abdominal TB হিসাবে ডায়াগনোসিস হয়। (যদিও ডাউটফুল কেইসে আমরা টিবির চিকিৎসাই আগে দেই এবং এর ব্যখ্যাও আছে)।


ভ্যারিয়েবল প্রেজেন্টেশনের কারণে প্রথমেই কেউ আইবিডির কথা ভাবেনা। এতে অনেক সময় চিকিৎসা শুরু করতে দেরী হয়ে যায়। আবার সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হয়ে চিকিৎসা দেয়াও যাবেনা। ডায়াগনস্টিক ফ্যাসিলিটির অপ্রতুলতা যদিও আছে, তথাপি এইগুলা দিয়েই আমরা ৯০% ক্ষেত্রে রোগনির্ণয় করতে পারি। 


সম্প্রতি বায়োলজিক্যাল এজেন্টের আবির্ভাবে চিকিৎসায়ও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সঠিক জায়গায় রেফার হলে ডায়াগনোসিস মিস হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। 


এবার আসুন, কিছু প্রশ্নের উত্তর খুজি।


১. আপনার বাচ্চার কি কদিন পরপরই রক্তআমাশয় হয়?

২. আপনার বাচ্চা কি দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়ায় ভুগছে?

৩. বাচ্চার বারবার পেট ব্যথার কি কারণ খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা? 

৪. বাচ্চাটি কি ক্ষুধামন্দা, হাল্কা জ্বর এবং ওজন বা উচ্চতায় বাড়ছেনা? 

৫. বাচ্চার কি প্রায়ই মুখে ঘা হয়?

৬. বাচ্চার স্কিন র‍্যাশ, জয়েন্ট পেইন, চোখের সমস্যা কি অমীমাংসিত আছে? 


বিঃদ্রঃ উপরের কোনো একটা উত্তর হ্যা বাচক হলেই যে আইবিডি হয়ে গেলো তা নয়, তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে আইবিডি এক্সক্লুড করা প্রয়োজন। আপনার চিকিৎসককে আইবিডি বিষয়ক আপনার উদ্বিগ্নতার কথা জানান। 


শেষ কথাঃ লেখা পড়ে ঘরে বসেই ডায়াগনোসিস করে ফেলবেন না। উদীয়মান হলেও অন্যান্য কমন রোগের তুলনায় এর সংখ্যা সীমিত। তাই সন্দেহ হলে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ, সম্ভব হলে শিশু গ্যাস্ট্রোএন্টেরলজি বিশেষজ্ঞ অথবা বিএসএমএমইউর শিশু গ্যাস্ট্রোএন্টেরলজি আউটডোরে দেখা করবেন। 


যে কোনো রোগের চিকিৎসার একটা মুলমন্ত্র হল, Early diagnosis and effective treatment.


সবার সুস্থতা কামনায়...

ডাঃ খন্দকার মোবাশ্বের আহমেদ,

এমবিবিএস, বিসিএস, এফসিপিএস (শিশু)

রেসিডেন্ট, শিশু পুষ্টি ও পরিপাকতন্ত্র বিভাগ,

বিএসএমএমইউ, ঢাকা।

Collected 

লেবেলসমূহ:

স্বামী আর স্ত্রী বেড়াতে গেল চিড়িয়াখানায়



 স্বামী আর স্ত্রী বেড়াতে গেল চিড়িয়াখানায়। তারা দেখল একটি বানর তার সঙ্গীনির সাথে খেলছে, খুনসুটি করছে। স্ত্রী দৃশ্যটা দেখে মুগ্ধ হয়ে স্বামীকে বলল: কী চমৎকার ভালোবাসার দৃশ্য!




এরপর তারা গেল সিংহদের খাঁচার কাছে। দেখল: সিংহ খাঁচার একপাশে চুপচাপ বসে আছে। সিংহীটাও অদূরে অন্য দিকে ফিরে বসে আছে।

স্ত্রী দেখে বলল: আহ! ভালোবাসার কী নির্মম পরিণতি! স্বামী এতক্ষণ চুপচাপ স্ত্রীর পাশে হাঁটছিল। এবার নীরবতা ভঙ্গ করে বললেন: ধরো! এই কাঁচের টুকরাটা সিংহীর দিকে ছুঁড়ে মারো, আর দেখো কী ঘটে! 

মহিলাটি যখন কাঁচের টুকরোটা ছুঁড়ে মারল, সিংহ ক্ষিপ্ত হয়ে গেল।
সঙ্গীনিকে বাঁচানোর জন্য গর্জে উঠল। এবার মেয়ে বানরটার দিকে ছুঁড়ে মারো। দেখ কী ঘটে। পুরুষ বানরটার আচরণ লক্ষ্য কর। স্ত্রী কাঁচের টুকরোটা বানরীর দিকে ছুঁড়ে মারল। দেখা গেল ছুঁড়ে মারার আগেই বানরটা আত্মরক্ষার্তে ছুটে পালিয়ে গেল। সঙ্গীনির দিকে ফিরেও তাকাল না।

স্বামী বলল: মানুষ তোমার সামনে যা প্রকাশ করে তা দেখে প্রভাবিত হয়ে যেয়ো না। অনেক মানুষ আছে যারা তাদের বানোয়াট লোক দেখানো আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করে অন্যকে প্রতারিত করে। আবার অনেক মানুষ আছে যারা তাদের ভেতরে গভীর অনুরাগ- ভালবাসা লুকিয়ে রাখে। আর বর্তমানে সিংহদের চেয়ে বানরদের সংখ্যাই বেশি।

ইয়া আল্লাহ! আমাদেরকে আপনজনের সাথে অকৃত্রিম আচরণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন

লেবেলসমূহ: