মঙ্গলবার, ৫ অক্টোবর, ২০২১

বিয়ের শাড়ি

 সালমা একবার এয়ার হোস্টেসের মতো সুন্দর পারিপাটি করে শাড়ি পরছে। আবার খবর পাঠ করা মেয়েদের মতো করে আঁচল ভাঁজ করে উপরে তুলে কীভাবে যেন পরছে। আবার মাথায় কাপড় তুলে গাঁয়ের বধুর মতো করেও শাড়ি পরছে।


আশ্চর্য মেয়েটার এত ধৈর্য একটা শাড়ি প্রায় এক ঘন্টা ধরে পরছেই পরছে।

আমাদের বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে সন্ধ্যায় কাছের কিছু আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত করেছি।


আমি ঘুমের ভান করে আড় চোখে সালমার দিকে তাকাই। মেয়েটা একা একা বিড়বিড় করে কী যেন বলে আবার হাসে।


এবার চট করে শাড়িটা খুলে ভাঁজ করে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে নিত্যদিনের আটপৌরে থ্রিপিসটা পরে আমার পাশে এসে বসল।


কী মনে করে গায়ে হাত না রেখে আবার বেরিয়ে গেল। সালমা বেরিয়ে যাওয়ার সময় দরজার পর্দা নড়ে উঠল।ফ্যানের বাতাসে না-কি সালমার শরীরের বাদাসে জানি না, পর্দাটা এখনো নড়ছে। 

আমি স্থির দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে রইলাম পর্দার দিকে। আমার দু'চোখর কোণ জলে ভেসে যাচ্ছে।


আমি পাভেল। ব্যাবসা করছি। জেলা শহরে বড় দুটো দোকান আছে। যেখানে রড ,সিমেন্ট, টিন থেকে শুরু করে ইট আর বালি ছাড়া একটা বিল্ডিং বানানোর প্রায় সব উপকরন পাওয়া যায়।

সালমা আমার স্ত্রী। আমাদের বিবাহিত জীবনের নয় বছর চলে। 

আমাদের একটা পুত্র সন্তানও আছে। ওর বয়স বেশি না। মাত্র চার বছর। নাম জাওয়াদ।


এই যে আমি শহরে বড় বড় দুটো দোকানের মালিক। আমার দোকানে সাতজন কর্মচারী কাজ করে। আমি মাসে খরচ বাদ দিয়ে গড়ে এক লক্ষ টাকার বেশি আয় করি।

বিয়ের সময় কিন্তু আমার এই অবস্থা ছিল না। সালমাকে যখন বিয়ে করি তখন আমার পকেটে স্কচটেপ দিয়ে জোড়া লাগানো একটা পাঁচ টাকার নোট ছিল।


আমি পরিবারের ছোট সন্তান। ভাই বোন সবাই আছে মোটামুটি নিজেদের মতো করে। অভাব না থাকলেও কারো সংসারে উদ্বৃত্ব ছিল না।


বোনরা তো পরের ঘর করে। শুধু আমি বেকার না, বাবাও বেকার। ভাইয়ের উপরই সংসার।

আমি মোটামুটি বয়স হওয়ার পর থেকে কিছু একটা করার জন্য কত চেষ্টা করেছি। কেন জানি কোনো কাজেই আমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি। 


চাকরি করেছি, ব্যাবসা করেছি। কোনোটাতেই আলোর মুখ দেখতে পারিনি।

এদিকে মেঘে মেঘে আমার বেলাও বেড়ে গেল। কখন যে বয়স ত্রিশ হয়ে গেল বলতেই পারব না। বন্ধু- বান্ধব সবাই বিয়ে করে ফেলেছে।

আমারও একটা সংসার করা প্রয়োজন। অথচ নিজের পকেটে টাকার জোর নেই। সে কারণে মনের ইচ্ছেকে মেঘের আড়ালে ঢেকে রেখেছি। যদি কখনো অবস্থার পরিবর্তন করতে পারি তখন না হয় দেখা যাবে।


কিন্তু না, আব্বা আমার পিছনে লেগেই আছেন, একটা বিয়ে করার জন্য।

আমি কখনো সাহস করিনি। পরের মেয়েকে ঘরে আনলেই তো দায়িত্ব শেষ না।

অানতে অনেক আয়োজন লাগে আর আনলেও সতেরো রকমের আনুষ্ঠানিকতা। সবকিছুতেই টাকার প্রয়োজন। অথচ আমার শুন্য পকেট।


বারবার বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে একবার আব্বা আমার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।


তখন অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রায় শুন্য হাতেই বিয়েতে রাজি হয়ে গেলাম।

বাবারও শুন্য হাত আমারও শুন্য হাত ভরসা শুধু আল্লাহর।


প্রায় দশ পনেরোটা মেয়ে দেখা হয়ে গেল। কোনো পরিবারই বেকার ছেলের সাথে আত্মীয়তা করতে রাজি হয়নি।


আমিও আশা ছেড়ে দিয়েছি। আয়ের কোনো পথ বের করতে না পারলে এজীবনে আর বিয়েই জুটবে না আমার কপালে।


হঠাৎ একদিন হাসিমুখে আব্বা খবর নিয়ে এলেন এক পরিবার আমার কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হয়েছে। আগামী শুক্রবার বায়না হবে।


আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে মানে শাড়ি, গয়না, মিষ্টি আরও কত কি। অথচ আমার পকেট তখন শূন্য।


আব্বা ভাই বোনদের কাছে প্রস্তাব করলেন 


"তোমরা সবাই মিলে সহযোগিতা করে পাভেলকে বিয়েটা করিয়ে দাও। বিয়ে হচ্ছে একটা ফরজ কাজ। সেটা ফেলে রাখা উচিত নয়।

বিয়ের পর দেখবে আল্লাহর রহমতে ওর অবস্থার পরিবর্তন হয়ে যাবে। আমারও একসময় কিছু ছিল না। আল্লাহ যা দিয়েছেন সব বিয়ের পরেই হয়েছে।"


ভাই বোনও খুশি মনে রাজি হয়ে গেল।


দুর্ভাগ্য আমি ৫০০টা টাকা আব্বার হাতে দিয়ে বলতে পারিনি। 


" বাবা,এই টাকা দিয়ে নতুন বউয়ের জন্য একটা শাড়ি কিনবেন।"


উনারা কিভাবে কিভাবে যেন এদিক সেদিক করে আমার বিয়ের আয়োজনটা সুসম্পন্ন করে ফেললেন।

আমি লজ্জায় হোক বা ভয়ে নিজ থেকে কোনো পরামর্শই দেইনি। টাকা পয়সা না দিতে পারলে যা হয় আর কি!


এক শুভশুক্রবার সালমার সাথে আমার বিয়ে হয়ে গেল। দাসবাড়ি থেকে সন্ধ্যার পর লুকিয়ে আনা একগুচ্ছ রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে আমি ফুলশয্যার ঘরে সালমা প্রেম নিবেদন করেছি।


সালমার পরনে ছিল লাল রঙচঙা শাড়ি। বিয়ের শাড়ি হিসাবে আমাদের বাড়ি থেকেই দেয়া হয়েছে।

ড্রিমলাইটের আলোয় আমার লালই মনে হয়েছিল শাড়িটার রঙ।

দিনের আলোয় মনে হল, না, খানিক ভুল হয়েছে শাড়িটার রঙ খয়েরি।

কিন্তু শাড়িটা কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে। কার পরনে যেন দেখেছি!


মা, বোন, ভাবি.... না, মনে পড়ছে না। 

শেষ বিকালে শাড়ি ভাঁজ করতে গিয়ে মনে পড়ল। এটা ছোট আপার শাড়ি। একদিন সে পরেছিল। হিল জুতার সাথে লেগে নিচের দিকে কয়েকটা সূতা উঠে গেছে।

আর আঁচলে একটু লিপিস্টিকের দাগও আছে। এছাড়া আর কোনো সমস্যা নেই পুরো শাড়ি টাটকা নতুন।


আমার মন খারাপ হয়ে গেল। বোনের পুরনো শাড়ি পরে আমার বউকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হল, শুধু আমি বেকার হওয়ার কারণে।

কষ্টে শুনেছি মেয়েদের কণ্ঠ ভারি হয়ে আসে, চোখ ভরে জল আসে। ছেলে হওয়ার কারণে কি-না জানি না এমন উথালপাথাল কষ্ট কখনো আমার হয়নি।


আজ সত্যি সত্যি আমি কষ্ট পেয়েছি। নিজেকে স্বামী হিসাবেই অযোগ্য মনে হয়েছে। মানুষ হিসাবে অস্তিত্বহীন।


আমি সালমার সামনে থেকে দ্রুত সরে গেলাম। বাথরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে অনেকক্ষণ কাঁদলাম।


আমি যখন বুঝতে পেরেছি, সালমা কি পারেনি! অথচ সে আমাকে একটা প্রশ্নও করেনি।


আমি আড়চোখে সালমাকে দেখি। সে হাসে, মিষ্টি হাসি, সুখের হাসি।

লিপিস্টিকের দাগ লাগা পুরনো শাড়ি নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই, আপসোস নেই।

সে আমাকে নিয়ে সন্তুষ্ট।

বিয়ের দিন শ্বশুর বাড়ি থেকে আসা দশ বছর বয়সি  মামাতো শ্যালিকা যখন বলল


" বুবু তোর বিয়ের শাড়িটা একদিন পরেই পুরনো করে ফেললি?"

সালমা ওর হাত থেকে ছোঁ মেরে শাড়িটা কেড়ে নিয়ে বলল

" বিয়ের শাড়ি মানুষ একদিনই পরে, সে কারণে ইচ্ছে করে পুরনো করে ফেলেছি। এটা নতুন থেকে কি হবে?"


" লিপিস্টিকের দাগও লাগিয়েছ?"


" শুধু লিপিস্টিকের দাগ নয়, ছিঁড়েও ফেলেছি। এদিকে দে আলমারিতে রেখে দেই।"


আমি আড়চোখে সালমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি। একরাত সংসার করা উনিশ বছর বয়সি একটা মেয়ে তার স্বামীর, শ্বশুর বাড়ির সম্মান রক্ষা করার জন্য কী অনায়াসে মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছে।


ঠিক সেই মুহূর্তে সালমার প্রতি আমার শুধু ভালোবাসা নয়, শ্রদ্ধাবোধও জেগেছে কয়েকশগুণ।

আমি সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছি, যেভাবেই হোক আমি নিজের অবস্থানের পরিবর্তন করব।

সালমাকে শাড়ির স্তুপে ডুবিয়ে রাখব।


আমার ইচ্ছাশক্তি হোক বা সালমার ভাগ্য হোক ত্রিশ বছরে যে আমি নিজের ভাগ্যের বিন্দু পরিমান পরিবর্তন করতে পারিনি।

সে আমি বছর না ঘুরতেই শহরে রড সিমেন্টর বড় দোকান দিয়ে ফেললাম। বিয়ের সময় বিভিন্ন আত্মীয় -স্বজন থেকে পাওয়া ২০,০০০ টাকা পুঁজি দিয়ে।


আমাদের বিয়ের নয় বছর চলছে। সালমার আলমারিতে প্রায় দুইশ শাড়ি আছে। সব আমার কেনা। আমি প্রতিমাসে তার জন্য কম হলেও একটা শাড়ি কিনে দেই।


আর ফিসফিস করে কানের কাছে গিয়ে অনুরোধ করি


" শাড়িটা পরবে।"

সালমা হাসে, মিষ্টি হাসি

" অবশ্যই পরব।"

যত শাড়িই আমি নিজের টাকায় সালমাকে কিনে দিয়েছি। তার এখনো পছন্দের শাড়ি হচ্ছে বিয়ের দাগ লাগা, ছেঁড়া শাড়িটা।


আজ আমাদের বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে বিয়ের শাড়ির মতো প্রায় সেইম কালারের একটা শাড়ি এনেছি। ভেবেছি সালমা বুঝি সেই শাড়িটা পরবে।

সেই শাড়িটা অবশ্য পরেছে সন্ধ্যায় আপ্যায়িত অতিথীদের সামনে।

মধ্যরাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে গেছে। সেই নয় বছর আগে  বিয়ের দিন পরা শাড়িটা পরে সে চুপিচুপি আমার পাশে এসে বসেছে। আমার হাতে আজও রজনীগন্ধা ফুলের গুচ্ছ। আজ আর কোথাও থেকে চুরি করে আনিনি। ছাদে টবের মধ্যে একটা রজনীগন্ধা ফুলের গাছ লাগিয়েছি।

বিবাহবার্ষিকীতে যেন সালমাকে উপহার দিতে পারি।


ছোট গল্প

বিয়ের শাড়ি


কামরুন নাহার মিশু

সোমবার, ৪ অক্টোবর, ২০২১

##প্যারেন্টিং এবং আমাদের মায়েদের অবদানঃ

 ##প্যারেন্টিং এবং আমাদের মায়েদের অবদানঃ


আমি একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক এবং বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের প্রভাষক। আমার সরকারি চাকুরির সুবাদে আমার অফিস টাইম এবং পেশাগত জীবনের একটা অংশ প্রাকটিস করেই কাটিয়ে দিছি।আমার দিন শুরু হয় ভোর পাচটা থেকে উঠার মধ্যে দিয়ে।আর রাতে ঘুমিয়ে যাই ১২ টার মধ্যে।ব্যতিক্রম যে হয় না তা না।অফিস টাইম ৮ টু ২ঃ৩০ এবং চেম্বারের প্রাকটিস লাইফ ৪ টা থেকে ৯ টা।বাসায় ফিরতে ফিরতে ১০ টা।আমার এত কিছু ডিটেইলস বলার উদ্দেশ্যে এখনকার সিংগেল ফ্যামিলির মায়েদের প্যারেন্টিং নিয়া বিশাল কষ্টকর অনুভূতি গুলো শেয়ার করার উদ্দেশ্য। আমার ছেলের বয়স ৪ বছর এর একটু কম।মেয়ের বয়স ১১ মাস প্লাস।তো এই দুই বাচ্চা নিয়া সারাদিন যে ঝড় টা আমার স্ত্রীর উপর দিয়া যায় সেটা হয়তো লিখে প্রকাশ করা যাবেনা। আমার দুইটা বাচ্চাই সিজারিয়ান। তো সিজার পরবর্তী যে সমস্যা গুলো একজন মায়ের হয় সেটা হল কোমর ব্যাথা।বেশি সময় বসে কাজ করতে না পারা।ভারি কাজ না করতে পারা।বসলে স্বাভাবিক ভাবে উঠতে না পারা।তারমানে সিজারিয়ান মা তার জীবনের স্বাভাবিক কাজ গুলো শুরুতেই করতে পারেন না শুধুমাত্র বাচ্চা নেওয়ার জন্য।আমার স্ত্রী খুব নীরবে এই ত্যাগ করে যাচ্ছেন কোন অভিযোগ ছাড়াই। বড় বাচ্চার তিনবেলা নিয়ম করে খাওয়ানো, তার অন্যান্য জ্বালাতন যেমন ধরেন সারাদিন বিছানা অগোছালা করা,খেলনাগুলো অগোছালো করা,দোকান থেকে বিভিন্ন পদের খাবারের বায়না,বিকালে হাটতে বের হলে নানা রকম বায়না সবই নিরবে পালন করে।দুপুরে যদি না ঘুমায় তাহলে যে পেইন সে দেয় সেটা আর না বলি।বাথরুমের পানিতে নানারকম কলাকৌশল ব্যবহার করা।,লবন,মরিচের গুড়া,হলুদের গুড়া,জিরার গুড়া, এগুলো দিয়ে রান্নার কলাকৌশল এপ্লাই করা।সবই সামলানোর কাজ টা আমার স্ত্রী ই করেন কোন অভিযোগ ছাড়াই। আর ছোট টার সকাল শুরু হয় ভোর চারটায় উঠা নিয়ে।সেখান থেকে এই যে জেগে থাকবে একটানা সকাল অব্দি।৫ঃ৩০ বাজার পর থেকেই শুরু হয় তার বাইরে যাওয়ার জন্য কান্না।৬ টার দিকে হয় আমি যাই নাহয় আমার স্ত্রী যায়।কোন অভিযোগ ছাড়াই। রাতের বেলা তাকে কয়েকবার ঘুম থেকে উঠে খাওয়ানোর কাজ টা আমার স্ত্রী ই করে খুব যত্ন করে কোন অভিযোগ ছাড়াই। সারাদিন প্রসাব পায়খানার কাপড় গুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপার তো আছেই।অসুস্থ হলে তার আলাদা সেবা যত্ন তো আছেই।বাসায় মেহমান আসলে তাদের আলাদা মেহমান দারি।রোজ একই কাজ,একই রুটিন একই পেইন,একই ঝড়।কোন বিশ্রাম নাই,নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কোন অভিযোগ ছাড়াই।কোন ছুটি নাই,কোন বিনোদন নাই।একই কাজ।এর পরে ও আমাদের মায়েদের নিয়ে অভিযোগ এর শেষ নাই।রান্নার কাজে আমি আমার স্ত্রী কে সহযোগিতা করি।কিছু কাজ ভাগ করে নেই।তাতে আমার উপর প্রেসার পড়ে তবু হাসিমুখে মেনে নেই।আমার মেয়েটা তিন মাস ধরে অসুস্থ ছিল।এই সময় টা আমরা খুব ক্রাইসিস মোমেন্ট পার করেছি।আত্নীয় স্বজন অনেকেই খোজ নেয় নাই।তাতে আমরা বিন্দুমাত্র ভেংগে পড়িনি।নতুন সকাল নতুন ভাবে শুরু করেছি।নামাজে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছি।নিজেদের উপর বিশ্বাস রেখেছি।এত কিছু লেখার উদ্দেশ্যে একটাই প্যারেন্টিং একটা চ্যালেঞ্জ। এখানে পেইন গুলো নেওয়ার শক্তি থাকতে হবে।আসবে নতুন চ্যালেঞ্জ। ধৈরয ধরার বিকল্প কিছুই নাই।কারোর উপর অভিযোগ নয়।স্যাক্রিফাইস ই আপনার সব সমস্যার সমাধান। আজকাল ফেসবুকে অনেক কেই দেখি নিজের হাজবেন্ড বা স্ত্রীর উপর দোষ আরোপ করে পোস্ট দিতে। তাতে কোন লাভ নেই।ক্ষতি ছাড়া। এতে সম্পর্কে ফাটল ধরে।ক্রোধ নয় ক্ষমা করতে শিখুন।নিজের স্ত্রীর প্রাপ্য সন্মান টুকু দিন।দিনশেষে আপনি ই জয়ী হবেন। 


হ্যাপি প্যারেন্টিং।

বাদশাহ হারুনুর রশীদ তাকে একটা মহামূল্যবান কথা

 বাদশাহ হারুনুর রশীদের কাছে এক লোক একটি চাতক পাখি বিক্রি করার জন্য নিয়ে এলো। তিনি দাম জিজ্ঞেস করলে সে বাজারমূল্যের চেয়েও অনেক বেশি দাম চাইলো। 



বাদশাহ জানতে চাইলেন, পাখিটির এত দাম কেন? অথচ তার একটি পা নেই!

লোকটি বললো, মার্জনা করবেন জাঁহাপনা! 


দেখতে সাধারণ হলেও এটি আসলে একটি বিশেষ ধরণের পাখি। এর বিশেষত্ব হলো- আমি যখন শিকারে যাই, তখন এই চাতক পাখিটিকেও সঙ্গে করে নিয়ে যাই। 


আমার পাতানো ফাঁদের সাথে এই পাখিটিকেও বেঁধে রাখি। এই পাখিটি তখন অত্যাশ্চর্য এক আওয়াজে অন্য পাখিদের মনোযোগ আকর্ষণ করে।


 তার এই আওয়াজ শুনেই ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা এসে জড়ো হয়। তখন আমি একসাথে সব পাখিকে শিকার করি। বলা যায় এই পাখিটিই আমার শিকারের প্রধান ফাঁদ।


বাদশাহ তার কথা শুনে পাখিটিকে শিকারীর চাহিদা অনুযায়ী চড়া দামেই কিনলেন এবং সাথে সাথে জবাই করে ফেললেন। শিকারী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, জাঁহাপনা! আপনি অনেক দামে কেনা পাখিটি এভাবে জবাই করে দিলেন?


তখন বাদশাহ হারুনুর রশীদ তাকে একটা মহামূল্যবান কথা বললেন, যা ইতিহাসে আজও অমর হয়ে আছে। তিনি বললেন, 


"যে অন্য জাতির দালালি করার জন্য তার স্বজাতির সাথে অনায়াসে এমন গাদ্দারি করতে পারে, তার এই পরিণতিই হওয়া উচিত''।


#কালেক্টেড

শিশুর_জন্য_আলাদা_বিছানা_কেন_দরকার

 #শিশুর_জন্য_আলাদা_বিছানা_কেন_দরকার? 



বেশ কিছুদিন আগে গ্রুপে আমরা একটা প্রশ্ন করেছিলাম মা-বাবাদেরকে যে আপনাদের সন্তানেরা আপনাদের সাথে একই বিছানায় ঘুমায় কিনা এবং তাদের বয়স কতো। ১৫০ জনেরও বেশি মায়েরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। নিউবর্ণ থেকে শুরু করে ২, ৩, ৪, ৫….৮, ৯ বছর বয়সী শিশুদের কথাও জানা গেছে যারা মা-বাবার সাথে একই বিছানায় ঘুমায়। আবার কিছু শিশুকে পাওয়া গেছে যারা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে ঘুমায়। ১৫০ জন মায়ের কাছ থেকে নেয়া তথ্য হলেও মোটামুটি বলে দেয়া যায় এটাই আমাদের বেশিরভাগ পরিবারের চিত্র। আসলে শুরুতে একটি বিষয় বলে নেই, আমরা কাউকে কোন দোষ, বা শেইমিং এর জন্য এই নিয়ে লিখছি না, আসলে এই বিষয়ে আমাদের নতুন করে ভাবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে বলেই এই নিয়ে লেখার চেষ্টা করা। আর বিষয়টি সেনসিটিভ হওয়ায় আমি নিজেও লিখবো লিখবো করে দেরি হয়ে গেলো। তবে আমরা সবাই এখানে এডাল্ট এবং সন্তানের মা-বাবা তাই  আমি আমার জায়গা থেকে খোলামেলা আলোচনা করছি, আশা করছি আপনারাও সহজভাবে নিবেন। 


আমি আজকে একদম নিউবর্ণ স্টেজ থেকে ১৮ মাস অব্দি ঘুমের ব্যাপারে কি রেকোমেন্ডেড তা নিয়ে আলোচনা করলাম না। যেহেতু আমাদের দেশ আর্থ-সামাজিক দিক থেকে অনেক পিছিয়ে এবং ভিন্ন তাই আমি আরো পরবর্তী স্টেজ নিয়েই লিখছি। 


দুই বছর বয়সী একটি শিশু হয়তো আমাদের বড়দের তুলনায় অনেক কিছুই বুঝেনা, তবে সে কিন্তু তার মতো করে অনেক কিছুই বুঝে। এই বয়সী শিশুরা এতো উৎসাহী হয় যে ওর চারপাশে যা দেখে তাই এক্সপ্লোর করে শেখার এবং চর্চা করার জন্য রীতিমতো অস্থির হয়ে থাকে। দেখবেন ২,৩,৪ বছর বয়সী শিশুরা টিয়াপাখির মতো যা শুনে তাই হুবুহু বলার চেষ্টা করে৷ কাজের ক্ষেত্রেও তাই, যা দেখে তাই কপি করে। তো এরকম শিশুদের এমনকি এর থেকেও বেশি বয়সী শিশুদের সাথে আমরা মা-বাবারা যখন একই বিছানায় ঘুমায় তখন কী কী হতে পারে? 


আমরা মা-বাবারা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এবং সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রীও। সারাদিন শেষে আমরা যখন রাতে ঘুমাতে যাই আমাদের কতো রকম কথাই থাকে যা আমরা সারাদিনে একে-অন্যের সাথে বলার সুযোগ পাইনা। তাই আমরা যখন বাচ্চার পাশে শুয়ে কথা বলবো বাচ্চার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে, এমনকি এমন কথাও সে শুনতে পারে যা তার শোনার কথা নয়। আবার দেখা যাবে বাচ্চার উঠে যাওয়ার ভয়ে আমরা কোন রকমে মুখ চেপে কথা বলছি। অথচ সারাদিন শেষে পার্টনারের সাথে এই সময়টুকু একান্তই আমাদের হওয়ার কথা ছিলো, সেখানে আমরা  মন খুলে কথা পর্যন্ত বলতে পারছিনা!  


আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের সচেতনতা থাকেনা, দেখা যায় আমরা যে কেউ যখন তখন এপাশ উপাশ করছি, স্বপ্ন দেখে কথা বলে উঠছি, বিভিন্ন শব্দ করছি অজান্তেই, নাকও ডাকি অনেকে বিকট শব্দে।এবার দেখা গেলো এসব শব্দে বাচ্চা উঠে পরবর্তী দুই-তিন ঘন্টা আপনাকে আর ঘুমাতেই দিলোনা। একসাথে ঘুমালে এর সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। 


সবথেকে জরুরি ব্যাপার  হলো--অনেক মা-বাবারা ভাবেন বাচ্চা ঘুমিয়ে গেলে তো আর কোন সমস্যা নেই, ঘুমের বাচ্চা কি বুঝবে নাকি, জানবে নাকি। উনারা ওই একই বিছানায় অন্তরঙ্গ হোন যা কিনা একটি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ঝুঁকিপূর্ন। এমনকি ওই সময়ে মা-বাবা নিজেও কিন্তু একটা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যান না জানি বাচ্চাটি জেগে যায় কিনা। প্রায় প্রতিবারেই হয়তো এমনই চলতে থাকে। এতে করে দেখা যায় নিজেরদের দাম্পত্য সম্পর্ক বলে আর বিশেষ কিছু থাকেনা, দূরত্ব বাড়ে, ধীরে ধীরে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে, যার প্রভাব আমাদের সার্বিক জীবনে পড়ে।


বড়দের মতো শিশুদেরও ঘুমের সাইকেল আছে। ওদের ঘুম গভীর থেকে হালকা, হালকা থেকে গভীর স্তরে যায়। এখন প্রশ্ন হলো মা-বাবারা যখন তাদের একান্তই ব্যক্তিগত মুহূর্তে থাকেন তখন শিশুটি যে ঘুমের হালকা স্তরে নেই তা কিভাবে নিশ্চিত হতে পারি আমরা? আর শিশুটি যে কিছু দেখেনি বা শুনেনি তা-ই বা কিভাবে শিউর হতে পারি? শিশুরা ছোট থেকেই বিভিন্ন প্রেক্ষিতে কিছু বিষয় বুঝে যায় যে কিছুকিছু বিষয়ে প্রশ্ন করতে হয়না, বা কাউকে বলতে হয়না। তাই আপনাকে কিছু না বললে, বা চিৎকার করে না উঠলেই ধরে নেয়ার সুযোগ নেই সে এই বিষয়টি দেখেনি। 


সেক্সুয়াল বিষয়টি মানব জীবনের স্বাভাবিক একটি পার্ট। আমরা সব মানুষ এই পদ্ধতিতে পৃথিবীতে এসে থাকলেও, এতে এক্সপোজড বা পরিচিত হওয়ার একটি উপযুক্ত বয়স থাকে। কিন্তু সে বয়সটি কোনভাবেও ২,৩,৪…….১২ নয়। আর মা-বাবার অন্তরঙ্গ সময়কে দেখার মধ্য দিয়ে তো নয়ই। অনেক শিশুরা ভয়ে কুঁকড়ে যায় যখন তার মা-বাবার এই বিশেষ সময়ে তার ঘুম ভেঙে যায় কিন্তু সে মুখ ফুটে কিছু বলেনা হয়তো। বিভিন্ন এনজিওর গবেষনায় এসেছে থার্ড ওয়ার্ল্ডের অনেক শিশুরাই সর্বপ্রথম সেক্সুয়াল বিষয়ের সাথে পরিচিত হয় ঘর থেকে, তাও আবার নেতিবাচকভাবে। আরো পরিষ্কার করে বলতে গেলে মা-বাবার সাথে একই বিছানায় ঘুমাতে গিয়ে। ছোট একটি উদাহরণ দিলে আরো পরিষ্কার হয়ে যাবে বিষয়টিঃ আমাদের দেশে ছোট ছোট বাচ্চা ছেলে-মেয়েরা হাসব্যান্ড-ওয়াইফ খেলা করে এবং মা-বাবার মতো করে ফিজিক্যালও হয় অনেকে। বিভিন্ন সময়ের গবেষনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। একটি সিনেমার একই দৃশ্য যদি দশজনকে দেখানো হয় তারা ভিন্নভিন্ন ভাবে নেবে, ঠিক তেমনি শিশুরা এইসব বিষয়কে কীভাবে নিবে তা আমরা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারিনা, তবে এটা নিশ্চিত যে এটাকে তারা সুন্দরভাবে নেয়না। কারণ তাদের সে বয়সই হয়না এটাকে বুঝার, জানার। বরং তাদের মধ্যে অনেকে ভয় পায়, অনেকে আবার এটা প্র‍্যাকটিস করার জন্য অস্থিরও হয়ে যায়। 


কিছু কিছু পরিবারে আবার বাচ্চাদেরকে পরিবারের অন্য কোন সদস্যদের সাথে ঘুমাতে দেয়া হয়। যেমনঃ দাদা-দাদী, নানা-নানী, চাচা, খালা, মামা, ফুপু। আসলে কোন সম্পর্ক বা কোন ব্যক্তিকে অবিশ্বাস করতে বলছি না। তবে আপনাকে এটা মনে রাখতে হবে যে আপনার শিশু ছেলে বা মেয়ে যাই হোক না কেন সে আপনাদেরকে ছাড়া অন্য কারো কাছেই শতভাগ নিরাপদ নয়। তাই অন্য কারো সাথে আপনার সন্তানকে ঘুমাতে দিবেন না দয়া করে৷ আমাদের চারদিকে প্রতিনিয়ত এমন সব অপরাধ ঘটছে শিশুদের সাথে যা আমাদের রীতিমতো নাড়িয়ে দেয়ার মতো। শৈশবে যতো শিশু সেক্সুয়ালি এবিউজড হয় তার বেশিরভাগই পরিবারের সদস্য এবং কাছের আত্মীয়দের দ্বারা হয়ে থাকে। তাই আপনার শিশু কেবল এবং কেবলমাত্র আপনার কাছে নিরাপদ। 


**আলাদা রুম আমরা যদি নাই দিতে পারি শিশুকে তবে আলাদা বিছানা যেন অন্তত দেই। দুই বছরের পর শিশুর সাথে একই বিছানায় যেন আমরা না ঘুমাই। একই রুমে ঘুমালেও আলাদা বিছানা দিন। যদি ভালো ব্যবস্থা না করতে পারেন তবে খাটের উপরে-নিচে বিছানা করে হলেও শিশুকে আলাদা রাখুন। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে অন্তত আপনাদের বিশেষ সময়ে আপনারা অন্য কোথাও যান, একই বিছানায় থাকবেন না।


আপনার শিশু এই সংবেদনশীল বিষয়টিতে যেন অন্তত আপনার মাধ্যমে, আপনার অসচেতনতার কারনে মিসগাইডেড না হয় সেই দায়িত্ব আপনার।


হ্যাপি প্যারেন্টিং।


#লেখাঃ শারমিন শামুন

#ছবিঃ সংগৃহীত